Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৬ বৈশাখ ১৪২১ রবিবার ২০ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  নেপথ্য ভাষন  খেলা  রবিবাসর    পুরনো সংস্করন  বইঘর 
নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত--কাটাকুটির ‘কত’ কথা ।। সি বি আই নিয়ে আমাকে ভয় দেখাবেন না: মমতা--সুনীল চন্দ ও অভিজিৎ চৌধুরি ।। শ্রমিকরা বলবেন জঙ্গিপুর কার?--অরূপ বসু ।। মৌসমের পালে গনির হাওয়া--অমিতাভ সিরাজ, মালদা ।। সারদা, টেট কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে গেলেন রাহুল --অভিজিৎ চৌধুরি, স্নেহাশিস সৈয়দ ।। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেনের বিষয়ে সুদীপ্তকে জেরা করবে ই বি ।। ঘাম ঝরানো নেতার অম্তরেও পাগলু--অরুন্ধতী মুখার্জি ।। নিরপেক্ষভাবেই কাজ করতে হবে এস পি, ডি এম-দের নির্দেশ কমিশনের ।। আমেথিতে সোনিয়া: ইন্দিরার নীতি মেনেই রাহুলকে আপনাদের দিয়েছি ।। হুরিয়ত নেতা গিলানির কাছে মোদির দূত! অস্বীকার বি জে পি-র ।। মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিতেই বীরভূমে খুন: বিমান ।। কংগ্রেসের আসন বাড়ছে: অধীর
বাংলা

ঘাম ঝরানো নেতার অম্তরেও পাগলু

মৌসমের পালে গনির হাওয়া

শ্রমিকরা বলবেন জঙ্গিপুর কার?

মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিতেই বীরভূমে খুন: বিমান

সারদা, টেট কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে গেলেন রাহুল

সি বি আই নিয়ে আমাকে ভয় দেখাবেন না: মমতা

খুনের সাক্ষী লোপাট করতেই খুন হীরালাল?

নিরপেক্ষভাবেই কাজ করতে হবে এস পি, ডি এম-দের নির্দেশ কমিশনের

পিয়ালি, শুভজিতের লকারের হদিশ

৪ আদিবাসী মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

ই ডি-র তদম্তে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়বে: প্রদীপ ভট্টাচার্য

বাসুদেব: এই সরকারের নীতি হল লুটের রাজ কায়েম করা

এ রাজ্যেও গরিব পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে চায় ‘কিস’

তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক অনুপম হাজরার সমর্থনে প্রচারে শাম্তিনিকেতনের শিল্পী-বুদ্ধিজীবীরা

আমি প্রজাপতি নই, উড়ে পালাব না: মুনমুন সেন

কংগ্রেসের আসন বাড়ছে: অধীর

ব্রাত্য: দায়িত্ব নিতে ভয় পায় সি পি এম

মানুষের দুঃখ-কষ্টে বাড়িতে কেঁদেছি

কার টাকায় হেলিকপ্টারে প্রচার চলছে তৃণমূলের? সূর্য

উচিত শিক্ষা দিতে হবে অধীরকে: মুকুল রায়

খড়দায় অসীমের সভা বানচাল

ঘাম ঝরানো নেতার অম্তরেও পাগলু

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

অরুন্ধতী মুখার্জি




দেব,

আপনি সবংয়ের মোহরপাড়ায় সাংবাদিকদের কাছে সত্যিটাই বলেছিলেন৷‌ নিজের রোড শো-কে রাজনৈতিক সফর বলতে রাজি হননি৷‌ বলেছিলেন, আপনি আপনার ভক্তদের সঙ্গে দেখা করছেন৷‌ আপনার রোড শো মানে আড়াল থেকে বেরিয়ে আসা এক নায়কের দেখা দেওয়া৷‌ সেখানে নন-ভোটার খুদে ভক্ত কিংবা স্কুলের মেয়ে, তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ, প্রবীণ-প্রবীণা– বয়স নিরপেক্ষভাবে সব মানুষই ভিড় করেন আপনাকে একবার চাক্ষুষ দেখবেন বলে৷‌ আপনি কোনও পথসভা করেন না, আপনি সংক্ষিপ্ত বত্তৃ্কতাও দেন না৷‌ ফিল্মে যেমন ডায়লগ থাকে, তেমনি আপনার রোড শো জুড়ে থাকে টুকরো সংলাপ৷‌ কখনও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ‘আমাকে ভোটটা দেবেন তো?’ কিংবা ‘আমাকে জেতাবেন তো?’ আবার কখনও বলেন, ‘বৌদি ভাল আছেন?’ ‘ঠাম্মা ভাল আছেন?’ চিত্রনাট্যে সংলাপ রেডি করা থাকে বলে আপনি অনায়াসে এ সব সংলাপ ছুঁড়ে দিতে পারেন৷‌ আর আপনার কাছ থেকে এটুকুই শুনবেন বলে ধৈর্য ধরে রোদের মধ্যেও দাঁড়িয়ে থাকে জনতা৷‌ আপনার একটু হাসি, একটু হাত নাড়া, একটু সংলাপ শুনে জনতাও উদ্বেলিত হয়, মেয়েরা হেসে কুটিপাটি হয়, মা-মাসির বয়সী মহিলারা আরও একবার আপনাকে ভালবেসে ফেলেন, অল্প বয়সীরা অটোগ্রাফের খাতা মেলে ধরে৷‌ আপনি অটোগ্রাফ দিলেন অকাতরে৷‌ আপনার অভিনয়ক্ষমতা নিয়ে একেকজন একেকরকম কথা বলেন৷‌ কিন্তু আপনাকে বোধহয় ভাল না বেসে পারা যায় না৷‌ আপনার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী সি পি আইয়ের সম্তোষ রানা ৪৬ বছর ধরে কমিউনিস্ট রাজনীতি করছেন৷‌ ঝড়-জল-রোদে পুড়ে নিজেকে কঠিন, কঠোর করেছেন৷‌ তিনি পর্যম্ত বার্জটাউনে পোড়াবাংলো পাড়ায় তাঁর ছাপোষা বাড়িতে বসে বললেন, ‘ছেলেটা দেখতে সুন্দর৷‌ মুখটা মিষ্টি, হাসিটা আরও মিষ্টি৷‌ দেখলে ভালবাসতে ইচ্ছে করে৷‌’ তাঁর স্ত্রী ভারতী রানা নিজেও কমিউনিস্ট, সি পি আই পার্টির সদস্য৷‌ তিনি আপনার জন্য নিজে রাবড়ি রেঁধেছিলেন আপনাকে খাওয়াবেন বলে৷‌ দুই কমিউনিস্ট নেতা-নেত্রীর আপনার প্রতি যদি এই মমতা থাকে, তা হলে পাগলু, চ্যালেঞ্জ, খোকাবাবু-র মতো সুপারহিট ফিল্মের নায়ককে চোখের সামনে দেখে ঘাটালের মানুষ কতটা অভিভূত হতে পারেন, তা আপনি রোড শো করে পলে পলে বুঝেছেন৷‌ মেদিনীপুরে ১১ মাইল থেকে রোড শো শুরু হয়ে চলল সবংয়ে৷‌ ৩৫ কিলোমিটার পথ পেরোলেন ৪ ঘণ্টায়৷‌ সকাল ১১টাতেই তখন মেদিনীপুরে খর রোদ৷‌ মুনমুন সেনের রোড শোয়ে রোদ ঢাকতে তাঁর মাথায় ছিল তৃণমূলি ছাতা৷‌ আপনি রোদ আড়াল করতে তৃণমূলি ছাতা নেননি৷‌ খর রোদে আপনার ঢাল ফুল স্লিভ টি-শার্ট, আর চোখে রোদচশমা৷‌ রোদচশমাটি আপনি মাঝে মাঝে খুলেছেন৷‌ দিনে ৭০-৮০ কিলোমিটার রোড শো করছেন৷‌ আপনার গায়ের রঙ ঈষৎ পুড়েছে৷‌ খর রোদে ডাবের জল বড় আরামের৷‌ আপনি ডাব নেননি৷‌ ভরসা রেখেছেন আপনার হাতের মিনারেল ওয়াটারের বোতলের ওপর৷‌ আপনার রোড শোয়ের জন্য সাদা মাহিন্দ্রা জিপটিকে হলুদ গাঁদায় সাজিয়ে তোলা হয়েছিল৷‌ হুড খোলা জিপটিতে আপনি দাঁড়িয়ে ছিলেন৷‌ দু’পাশে দাঁড়িয়ে-থাকা জনতার দিকে তাকিয়ে অবিরাম হাত নেড়েছেন, হেসেছেন, সংক্ষিপ্ত সংলাপ ছুঁড়ে দিয়েছেন৷‌ আপনার সঙ্গে হাত মেলানোর জন্য সে কী আকুলতা, তা লক্ষ্য করেছি৷‌ আপনি কারও সঙ্গে হাত মেলাননি৷‌ আঙুল ঝিরিঝিরি করে নেড়ে হাজার হাজার হাত ছুঁয়ে গেছেন৷‌ করমর্দন করেননি৷‌ রোড শো যত এগিয়েছে, তত বেড়েছে জনস্রোত৷‌ আপনি আপনার উপস্হিতির জাদুতে জাগিয়ে তোলেন মন৷‌ আপনাকে দেখে হাজার বাতির হাসি ফুটে উঠল অল্প বয়সীদের মধ্যে, চোখে আলো ফুটে উঠল জনতার মধ্যে৷‌ আপনি ফুল ছুঁড়ে দিলেন, ফুল এল রাস্তার দু’পাশ থেকে৷‌ গাঁদা ফুলের পাপড়ি-বৃষ্টি৷‌ রানীচকে দাঁড়াল আপনার জিপ৷‌ ভীমনা গার্লস হাই স্কুলের মেয়েদের ছুটি হয়ে গেছে অনেকক্ষণ৷‌ তারা আপনার জন্য ঠায় রোদে দাঁড়িয়ে ছিল, আপনাকে দেখবে বলে৷‌ আপনি জিপের মাথার ওপর দাঁড়িয়ে, জিপের মাথাটা ভরে গেছে হলুদ ফুলে৷‌ হলুদ ফুল-কার্পেটের ওপর আপনি দীর্ঘদেহী, সুপুরুষ মানুষটি দাঁড়িয়ে, যাঁর সি‘ প্যাক ঢাকা পড়েছে শেওলা সবুজ টি-শার্টে৷‌ আপনার মাথার ওপরের আকাশ ভরে গেছে ভালবাসার ফুলে, উচ্ছ্বাসের, আবেগের হাসিতে, সুগন্ধে৷‌ আপনি জানেন আপনার ভক্তদের৷‌ তবুও মুগ্ধ হন তাঁদের মতোই৷‌ আপনার ভাল লাগে তাঁদের ছুঁড়ে দেওয়া ফুল৷‌ আপনাকে দেখে মনে হল আপনি ফুল দেখছেন না, দেখছেন অসংখ্য আঙুল– যে আঙুল চাপ দিচ্ছে ভোটযন্ত্রের সেই বোতামটিতে, যার পাশে আঁকা জোড়া ফুল চিহ্ন৷‌

আপনাকে জানাই, মানুষের এই আবেগকেই ভয় পাচ্ছেন সম্তোষ রানা৷‌ ‘ভালবাসতে ইচ্ছে করে’ এমন ছেলেটিকে তিনি অস্বীকার করতে পারছেন না৷‌ আপনি বলেছেন, আপনি রাজনীতিক নন৷‌ আপনি জিতলে অন্যদের আপনাকে সাহায্য করতে বলবেন৷‌ আর হারলেও ঘাটালবাসীকে সাহায্য করবেন৷‌ এ সবই আপনি বলেছেন মোহরপাড়ায়৷‌ আপনি রাজনীতিতে আনকোরা৷‌ ৪৬ বছরের রাজনীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্তোষ রানা আপনার মতো এক ৩২ বছরের যুবককে ভয় পাচ্ছেন৷‌ থুড়ি বলছি৷‌ যুবক নয়, মন-ভোলানো নায়ক, হিরো৷‌ সম্তোষ রানা আমাকে পরিষ্কার বললেন, মানুষের আবেগকে মূলধন করে বৈতরণী পার হতে চায় তৃণমূল৷‌ দেব, আপনাকে ঘাটালে দেখে মানুষের আবেগ আঁচ করতে পেরেছেন ধুরন্ধর রাজনীতিক৷‌ ১৯৮০ সাল থেকে তিনি প্রবাদপ্রতিম নেত্রী গীতা মুখার্জির নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন৷‌ ১৯৬৮ সাল থেকে তিনি রাজনীতি করছেন৷‌ ধীরে ধীরে উঠেছেন৷‌ মেদিনীপুর জেলা সি পি আইয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন৷‌ বিধায়ক হয়েছেন৷‌ মেদিনীপুরের সংগঠনকে চেনেন হাতের তেলোর মতো৷‌ সেই পরিপক্ব রাজনীতিবিদ সম্তোষ রানাকে আপনি আপনার ব্যবহার দিয়ে মুগ্ধ করেছেন৷‌ আপনি সম্তোষ রানাকে ‘স্যর’ বলে তাঁকে মোহিত করেছেন৷‌ আপনার ‘স্যর’ আপনাকে বলেছিলেন, তাঁর বাড়িতে গাড়ি যায় না৷‌ আপনার মতো হিরো তা হলে সেখানে ঢুকবেন কী করে? আপনি পরোয়া করেননি৷‌ গাড়ি অদূরে রেখে পুরসভার কলতলার পাশ দিয়ে হেঁটে আপনি সেই মধ্যবিত্ত গন্ধমাখা বাড়িটিতে ঢুকেছিলেন৷‌ ঢুকে পড়েছিলেন ভারতী রানার হেঁসেলে, সম্ভবত কিছুক্ষণের জন্য হলেও তাঁদের অম্তরে৷‌ সম্তোষ রানা উত্তম, সুচিত্রা, সৌমিত্রকে দেখেছেন৷‌ আপনার ছবি দেখেননি৷‌ কিন্তু আপনার ‘পাগলু’ গানটা শুনেছেন৷‌ নাচটাও টিভির চ্যানেল সার্ফ করতে করতে দেখে ফেলেছেন৷‌ তিনি অবশ্যই জানেন, খোকাবাবু লাল জুতো পায়ে৷‌ এ সবই সম্তোষ রানা আমাকে জানিয়েছেন৷‌ কিন্তু দেব, আপনি ফিল্ম সুপারহিট করিয়ে দিতে পারেন, আপনার হাসি ভুবনমোহিনী হতে পারে, কিন্তু আপনি এই প্রবীণ রাজনীতিককে ভুলিয়ে দিতে পারেননি তাঁর শিকড়৷‌ মেদিনীপুরের নারায়ণগড়-পটাশপুর সীমাম্তে কেলেঘাই নদীর তীরে দশগ্রাম তাঁর গ্রাম৷‌ ছোটবেলায় দশগ্রামের জোতদার, জমিদারদের অত্যাচার দেখেছেন৷‌ কৈশোরের সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে কমিউনিস্ট করেছে৷‌ তিনি খেতমজুরদের মধ্যে সংগঠন করে বড় হয়েছেন৷‌ মজুরির লড়াই করেছেন৷‌ গুরুদাস দাশগুপ্ত যখন নির্বাচনে দাঁড়াবেন না বললেন, তখন ঘাটালের জন্য সি পি আই প্রার্থী খোঁজা শুরু করল৷‌ আপনার বিরুদ্ধে সম্তোষ রানার থেকে উপযুক্ত প্রার্থী আর কে-ই বা হতে পারেন? এ যেন গ্ল্যামার বনাম কেজো রাজনীতিকের লড়াই৷‌ এ যেন সুললিত কবিতা বনাম কঠিন কঠোর গদ্য৷‌ এ একেবারে রুপোলি পর্দার নায়ক বনাম ঘাম-ঝরা নেতার লড়াই৷‌ দেব, রোড শোয়ে আপনার কনভয় বড় রাস্তা ধরে যায়, গ্রামের ভেতরে পৌঁছয় না৷‌ গ্রামের আশপাশ দিয়ে ঘুরে বেড়ায়৷‌ শেষ পর্যম্ত পাঁশকুড়ার জয়কৃষ্ণপুরে উন্মাদনার কাছে এক গোল খেয়ে আপনি সূচি বদল করলেন৷‌ নির্ধারিত সূচিতে আপনার গ্রামে ঢোকার পরিকল্পনা ছিল না৷‌ বড় রাস্তা ধরে শুধু কেন্দ্র পরিক্রমা৷‌ কিন্তু আপনি বললেন, ঢুকব জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে৷‌ মাহিন্দ্রা জিপ ঢুকল গ্রামে৷‌ আর আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী টইটই করে ঘুরছেন গ্রামের অন্দরে৷‌ পার্টি থেকে তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছে, ‘নায়ক করুন রোড শো৷‌ সেই সময় আপনারা ঢুকে পড়ুন গ্রামের অন্দরে, সেখান থেকে অম্তরে৷‌’ তাই তাঁর রোড শো নেই৷‌ তিনি গাড়িতে চড়ে মেদিনীপুর থেকে ঘাটাল গেলেন৷‌ তার পর সওয়াই গ্রাম৷‌ সেখান থেকে বালিডাঙা৷‌ কাঁচা রাস্তা ধরে সওয়াই গ্রামে হাঁটলেন৷‌ পেছনে সাইকেল মিছিল, সি পি আইয়ের পতাকা নিয়ে মানুষের মিছিল৷‌ কয়েকশো মানুষ ধান-শিষ-কাস্তে, ধান-শিষ-কাস্তে বলে পথ পরিক্রমা করছেন৷‌ ভিজে জবজবে হয়ে সম্তোষ রানা এলেন বালিডাঙায়৷‌ সেখানে মনিহারি দোকানের সামনে ভোট চেয়ে সংক্ষিপ্ত ভাষণ৷‌ মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে তৃণমূলি সন্ত্রাস– সবই এল সে ভাষণে৷‌ দেব, আপনার মিষ্টি হাসি দেখেও পরিপক্ব রাজনীতিকটি কিন্তু ভোলেননি কেশপুরের কথা৷‌ একসময় মমতা বলেছিলেন, কেশপুর সি পি এমের শেষপুর৷‌ এখন সি পি এম-সি পি আই বলছে, কেশপুরে সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল৷‌ ২১ মার্চ বাম নেতারা কেশপুরে তৃণমূলের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সভা করলেন৷‌ কেশপুরের ময়তা-সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রচারে গেছেন সম্তোষ রানা৷‌ পায়ে হেঁটে, মিছিল করে ময়তার অম্তঃপুরে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছেন৷‌

দেব, আপনার আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মানস ভুঁইয়া৷‌ তিনিও রোড শো-ফোড শো করেন না৷‌ তিনিও প্রচার করছেন পাড়ায় পাড়ায়, বাজারে, মানুষের দোরে৷‌ কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও জিপে বা কখনও বাইকে৷‌ নিজেই চালান ভারী বাইকটি৷‌ সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা, আবার দ্বিতীয় দফায় বেলা ৩টে থেকে রাত ১০টা– এই তাঁর ভোট-প্রচারের রুটিন৷‌ সম্তোষ রানার বাড়িতে গিয়ে আপনি হইহই ফেলে দিয়েছেন৷‌ সবংয়ে যখন গেলেন, তখন আপনার আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ডাঃ মানস ভুঁইয়ার বাড়ি গেলেন না৷‌ আপনার প্রচারপথ থেকে সে বড় দূরে ছিল না৷‌ সবংয়ে জমিদার-বাড়ির সম্তান মানস ভুঁইয়া৷‌ ধিকনি নিশ্চিম্তপুর গ্রামে তাঁর পৈতৃক দোতলা বাড়ি৷‌ তাঁর একটি স্করপিও আছে৷‌ কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে তিনি বেশি ভরসা করেন তাঁর পা দুটি এবং মোটরবাইকের ওপর৷‌ আর তাঁর বড় ভরসা নিজের ওপর৷‌ তিনি সবংয়ের, অর্থাৎ ঘাটালেরও ভূমিপুত্র৷‌ এবার ঘাটালে তাই তিন ভূমিপুত্রের লড়াই৷‌ দেব, আপনিও ঘাটাল-পুত্র, মহিষদায় আপনার বাড়ি৷‌ আপনাকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, আপনি কেন আপনার দ্বিতীয় প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়ি গেলেন না৷‌ আপনি মহারথী হলেও মানসও যোদ্ধা৷‌ আজ পর্যম্ত কংগ্রেস ছাড়েননি৷‌ তিনি বুক ফুলিয়ে বলেন, তিনি পরিযায়ী পাখি নন৷‌ রাজনৈতিক উদ্বাস্তু নন৷‌ তিনি সবংয়ের সৈনিক৷‌ দেব, আপনি রাজনীতিতে আনকোরা বলে বোধহয় জানেন না, মানসের অনুভবশক্তি প্রখর৷‌ উপলব্ধি করতে পারেন, কী ঘটতে চলেছে৷‌ ডাক্তারবাবুর বড় গুণ নাড়ি টিপে রোগ ধরে ফেলার৷‌ ডাক্তারবাবুর আরও একটি গুণ আছে৷‌ তিনি ঘটনার আগাম আঁচ পেয়ে যান৷‌ তাই বোধহয় ঘাটালে প্রার্থী হতে চাননি৷‌ গুরুদাস দাশগুপ্তের মতো সরে আসতে চেয়েছেন৷‌ কিন্তু রাহুলের কথা ফেলবেন না৷‌ আর সোনিয়ার ইচ্ছেয় না করবেন না৷‌ তাই ঘাটালের নির্বাচনী ক্ষেত্র থেকে পলায়ন করেননি৷‌

দেব, আপনি রুপোলি পর্দার নায়ক হয়েও নির্বাচনে লড়তে রাজি হয়েছেন৷‌ আপনি বলেছেন, সিনেমা আর রাজনীতিকে ব্যালেন্স করবেন৷‌ আপাতত আপনি একটু ট্যান হয়েছেন৷‌ প্রচার করছেন সকাল থেকে, দুপুরের রোদে পুড়ে প্রচার করতে পিছপা হচ্ছেন না৷‌ প্রচারের একেবারে প্রথম দিকে ঘাটাল ছেড়ে অনতিদূরে চন্দ্রকোনায় গিয়ে যোদ্ধা-র শুটিং করতেন৷‌ শুটিং শেষ হওয়ার পর প্রচারে পুরো মনোনিবেশ করেছেন৷‌ বর্ম পরে পুরোপুরি যোদ্ধার সাজে যোদ্ধা-র শুটিং করেছেন৷‌ সেই ছবিতে আপনি মহাযোদ্ধা৷‌ তবে প্রেমিকাকে ফিরিয়ে আনার যুদ্ধে আপনি প্রথমে জিততে পারেননি৷‌ জিতেছেন, তবে একটু দেরিতে– পুনর্জন্মের পর৷‌ কিন্তু এবারে লোকসভা ভোটে আপনাকে প্রথম সুযোগেই জিততে হবে৷‌ এই যুদ্ধে আপনার অস্ত্র ভোঁতা করার জন্য তৈরি আরও দুই সৈনিক৷‌

ইতি–






kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || nepathya bhasan || khela ||
sunday || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited